তিতাস একটি নদীর নাম
বই
এর ভুমিকা
তিতাস
একটি নদীর নাম অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। এই একটি উপন্যাস
লিখে লেখক খ্যাতি অর্জন করেন। এই উপন্যাসে গ্রামের
দরিদ্র মালো শ্রেণীর লোকজনের দুঃখ-দুর্দশার কাহিনী ফুটিয়ে তুলেছেন।
চলচ্চিত্র
ভুমিকা
তিতাস
একটি নদীর নাম হল ঋত্বিক ঘটক
পরিচালিত ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশী নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র। বাঙালি ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক অদ্বৈত
মল্লবর্মণ রচিত উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নাম অবলম্বনে চলচ্চিত্র উপযোগী করে নির্মিত হয়েছে। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন হাবিবুর রহমান খান, এটি তার প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র।[১] ছবিটিতে শ্রেষ্ঠাংশে
অভিনয় করেছেন প্রবীর মিত্র, রোজী সামাদ, কবরী ও গোলাম মুস্তাফা।
"তিতাস
একটি নদীর নাম" চলচ্চিত্র কাহিনী
সংক্ষেপ
কিশোরী
বাসন্তী বিয়ের বয়স হতে থাকে। সে তিতাস পাড়ে
অপেক্ষায় থাকে খেলার সাথী কিশোর চন্দ্র আর সুবলের জন্য।
সময় কাটে, কিশোর আর সুবল যৌবনে
পা দেয়, দূর নদীতে জাল বাইতে যায়। তিতাস পাড়ের গ্রামে মালোদের দোলের সময় এক ঝামেলায় সহযোগিতার
জন্য ওরা মারামরিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে মোড়লদের ঘরের এক মেয়ে রাজার
ঝি (কবরী) অজ্ঞান হয়ে যায়। এক আক্রমণকারী রাজারঝিকে
আক্রমণ করলে কিশোর তাকে রক্ষা করে। এতে মোড়ল খুশি হয়ে রাজারঝির সাথে সাহসী কিশোরের বিয়ে দেয়। যে দিন বউকে
নিজ গাঁয়ে নিয়ে যাবে, রাতে ডাকাতেরা নতুন বউকে চুরির চেষ্টা করে। নতুন বউ পানিতে ঝাপ
দিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। কিন্তু কিশোর রাতের আঁধারে তা দেখতে পায়
না। এই ঘটনায় কিশোর
পাগল হয়ে যায়। আর নতুন বউ
নদীতে ভেসে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, নববধূ তার স্বামী সম্পর্কে কিছুই জানে না, সে এমনকি তার
স্বামীর নামও জানে না। শুধুমাত্র কিশোরের গ্রামের নামটি জানে।
সদ্যবিবাহিত
বউ হারিয়ে কিশোর (প্রবীর মিত্র) পাগল হয়ে যায়। সুবল বিয়ে করে বাসন্তীকে। কিন্তু বিয়ের পরপরই ঝড়ের রাতে নৌকায় কাজ করতে গিয়ে মারা যায় সুবল, বিধবা হয় সুবলের বৌ বাসন্তী (শামীমা
আক্তার রোজী)। দশ বছর
পর কিশোরের বউ ছেলে অনন্ত
সহ তার গ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু কিশোর তাকে চিনতে পারে না। রাজারঝি তার আপন পরিচয় গোপন করে, যাতে ডাকাতের হাত থেকে ফিরে আসা বঊকে কেউ ক্ষতির কারণ না মনে করে।
কিশোরের গ্রামের কিছু বাসিন্দা তাদের খাবার দিতে অস্বীকার করে ও তার ছেলে
ক্ষুধার জ্বালায় চুরি করে।
রাজারঝির
অন্ন বস্ত্রাদির অভাবে পাশে এসে দাঁড়ায় বাসন্তি। সইয়ের ছেলেকে আপন করে বড় করতে থাকে। আর চোখের সামনে
থাকা পাগল কিশোরের কর্ম দেখে রাজারঝি তাকে পিঠা বানিয়ে খাওয়ায়। পাগল তবুও তার নিজের বউকে চিনতে পারে না। একসময় পাগল তাকে চিনতে পারে। কিন্তু ঠিক তার পরেই তার স্ত্রী মারা যায়। ছেলে অনন্ত বনে বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। মায়ের মুখ খুঁজে মালোপাড়ার প্রতিমায়।
অনন্ত
আশ্রয় পায় বিধবা বাসন্তীর কাছে, কিন্তু বাসন্তীর নিজেদের সংসারই চলে না অভাবের কারণে।
এক মাত্র উপার্জন ক্ষম বৃদ্ধ পিতা মাছ ধরে যা আয় করে
তা দিয়ে দুই বুড়া বুড়ি আর বাসন্তীর পেট
চলে না, তার উপরে অনন্তের ঝামেলা নিতে বুড়া বুড়ি রাজি না। কিছুদিন অনেক কষ্টে বাসন্তী অনন্তকে লালন করলেও শেষে আর পেরে না
উঠে তাকে তাড়িয়ে দেয় বাড়ি থেকে।
আশ্রয়হীন
বালক অনন্তের আশ্রয় হয় নিঃসন্তান উদয়তারার কাছে। সেখানেই অনন্ত ঝুঁকে পরে লেখা পড়ার দিকে। অনন্ত কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে
যায় দূরের শহরে আরো পড়বে বলে।
একের
পর এক অনেক দিন
মাস বছর কেটে যায়। হঠাত করেই তিতাসের বুক জুড়ে জেগে উঠে বিশাল চর। সেই চর দখল করতে
যায় মালোরা আর জেলেরা, হয়
মারামারি।



Comments
Post a Comment