দেবী - বই ও সিনেমা




দেবী বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি রহস্য উপন্যাস। এটি ১৯৮৫ সালের জুন মাসে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মিসির আলি চরিত্রের পরিচয় ঘটে। মিসির আলি যুক্তি দিয়ে বিভিন্ন রহস্যের স্বরূপ উদ্‌ঘাটন করে থাকেন। এই উপন্যাসে মিসির আলি রানু নামে এক শ্রুতি ভ্রমগ্রস্থ ও এক্সট্রা সেন্সরি পারসেপশন সমৃদ্ধ তরুণীর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করেন।




#প্রকাশনার_ইতিহাস_সম্পাদনা

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার ফার্গো শহরে অবস্থানকালে একদিন তার স্ত্রী গুলকেতিন আহমেদের সাথে গাড়িতে ভ্রমণকালে হুমায়ূন আহমেদ প্রথমবার মিসির আলি চরিত্রটির ধারণা পান। এই চরিত্রের ধারণা পাওয়ার অনেকদিন পর তিনি দেবী উপন্যাস রচনার কাজে হাত দেন।বইটি ১৯৮৫ সালের জুন মাসে অবসর প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়।

 

কাহিনী সংক্ষেপ   সম্পাদনা

মধ্যরাতে রানু অস্বাভাবিক কিছুর উপস্থিতি টের পায় এবং তার স্বামী আনিসকে ডেকে তোলে। আনিস যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়ে রানুকে শান্ত করার চেষ্টা করে। বিষয়টাতে আনিস ঘাবড়ায় না।কারণ রানুর এমন আচরণ সে আগেও দেখেছে। রানু অনেক জিনিসই আগে থেকে বলতে পারে।অনেক অজানা জিনিস,যা তার জানার কথা না,তাও সে বলতে পারে। আনিসের মাঝে মাঝে মনে হয় রানু অসুস্থ।কিন্তু তার মন এতে সায় দেয় না। সে সবকিছুরই ব্যাখ্যা সরল মনে করার চেষ্টা করে।রানুর প্রতিবেশী নীলুও রানুর রহস্যময়তা টের পায়।সে রানুর প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। তার আগ্রহের কারণ সে মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী।শিক্ষক মিসির আলির সাথে রানু এ ব্যাপারে কথাও বলে।আনিসও মিসির আলিকে সব খুলে বললে মিসির আলি রানুকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে।রানুর অস্বাভাবিকতা ও অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার রহস্য উদঘাটনে মিসির আলি রানুর গ্রামে যায়। রানুর ভাষ্যমতে সে যখন ছোট ছিল,তখন একটা অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হয় সে।নদীতে গোসলের সময় কেউ তার পা টেনে ধরে। পরবর্তীতে দেখা যায়,তার পা জড়িয়ে রেখেছে একটা লাশ। তারপর থেকেই রানু এমন।কিন্তু গ্রামের অনেকেই এ ঘটনার কথা মনে করতে পারে না। সবাই জানায় গ্রামের একজন নিজ লালসার চরিতার্থে ভুলিয়েভালিয়ে একদিন রানুকে বিষ্ণু মন্দিরে নিয়ে যায়। কিন্তু লোকটি ওখান থেকে কিছুপর ভয় পেয়ে পালিয়ে আসে।এরপর থেকে বিষ্ণু মন্দিরের সাদা মূর্তিটার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।এদিকে নীলু এক ছেলের সাথে রেস্টুরেন্টে দেখা করতে যায়।ছেলেটি প্রথমে ভালো ব্যবহার করলেও পরে নীলুকে জোর করে তার গাড়িতে তুলে নিয়ে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।রানু বুঝতে পারে ঘটনাটি।রানু এসময় অসুস্থ হয়ে পড়ে।জ্বরের ঘোরে কার সাথে যেন কথা বলতে শুরু করে।একসময় রানু মারা যায়।ঠিক সে সময় নীলুরও খবর পাওয়া যায়।নীলুকে জিজ্ঞাসা করলে নীলু বলে,কোনো এক অদৃশ্য শক্তি তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া ছেলেটাকে মেরে ফেলেছে।মিসির আলি ঘটনাটির ব্যাখা দেয়,উত্তেজিত মনের স্বাভাবিক কল্পনা বলে। তবে এরপর থেকে মিসির আলি নীলুর মধ্যে এক অন্যরকম পরিবর্তন দেখতে পায়। ঘটনাটির পর থেকে নীলুর চেহারাটা একদম রানুর মতো হয়ে যায়।মিসির আলি এর রহস্য উন্মোচনে অপারগ হয়।






#চলচ্চিত্র

দেবী ১৯৬০ সালের সত্যজিৎ রায় পরিচালিত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। ছবিটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শর্মিলা ঠাকুর, ছবি বিশ্বাস, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অনিল চট্টোপাধ্যায়, করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

#কাহিনী_সংক্ষেপ

ছবিটার ঘটনা সাজানো হয়েছে ১৮৬০ সালে চাঁদপুরে । দয়াময়ী ও তার স্বামী তার বড় ভাইয়ের (কালীকিঙ্কর রায়)সাথে থাকে। এলাকার ভেতর তিনি একজন নামকরা মানুষ । যখন দয়াময়ীর স্বামী কলিকাতায় চলে যায় পড়া লেখা করার জন্য, তখন দয়াময়ী তার বুড়ো শশুরকে দেখা-শুনা করতে শুরু করে। তার এক পাশে খোকা থাকে যার সাথে তার বড় একটি বন্ধুত্ব শুরু হয়।পরে তিনি একটি স্বপ্ন দেখে যেখানে দয়াময়ীকে তিনি মা কালীর রূপে দেখেন। তিনি বলেন যে সে পূজার করার যোগ্য। যখন একটি মৃত্যুর ছেলে দয়াময়ীর চরণে থাকে, তখন সে সুস্থ হয়ে উঠে এবং খবরটা প্রকাশ হয়। অনেকে সাহায্য চায়। যখন দয়াময়ীর স্বামী এই ঘটনা শুনতে পারে, সে ফিরে আসে। সে এই ভুল প্রথাকে ঠিক করতে বলে।

তারপরে সে দয়াময়ীকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। কিন্তু তিনিও এটার উপর বিশ্বাসী যে সেটা থেকে চলে আসতে পারছে না। খোকা তখন অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মারা যায় দয়াময়ীর হাতে। শেষ দৃশ্যে দয়াময়ী দৌড়াতে দৌড়াতে একটি মাঠে অদৃশ্য হয়ে যায়।



আমাদের সাথে যুক্ত হোন:

১। Group: https://www.facebook.com/groups/1333582920365246/?ref=share

। পেইজ: https://www.facebook.com/bookfestival2020/)

৩।  ইমেইল: info.bookfestival@gmail.com


Comments

Popular posts from this blog

মুক্তিযুদ্ধের বই - ০৪

লালসালু - বই ও সিনেমা

স্ফূলিঙ্গ - গল্পের পেছনের গল্প